ওয়ারেন, ৮ নভেম্বর : শ্যামামায়ের আরাধনা, প্রদীপের আলো আর সংগীতের সুরেলা আবেশে মুখর হয়ে উঠেছিল মিশিগান কালী বাড়ি। শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন গতকাল শনিবার রাতে সংগীতের ছন্দে মাতোয়ারা হন প্রবাসী বাঙালিরা। ভারতীয় সংগীতশিল্পী তৃষা চ্যাটার্জির প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবের আনন্দ পায় ভিন্ন মাত্রা।
রাত ৯টায় মন্দিরের ‘দীপাবলি সংগীতসন্ধ্যা’র মঞ্চে শুরু হয় বিশেষ আকর্ষণীয় একক সংগীতানুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন মুম্বাই ও কলকাতার প্লেব্যাক গায়িকা ও লাইভ পারফর্মার তৃষা চ্যাটার্জি। মঞ্চে এসেই নিজের কণ্ঠের মাধুর্য ও প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতাদের মনোযোগ কেড়ে নেন তিনি। একের পর এক জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সংগীতের সুরেলা আবহে মাতিয়ে রাখেন পুরো আয়োজন। কখনো সুরের মূর্ছনায়, কখনো গানের ছন্দে মঞ্চজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণচাঞ্চল্য। তাঁর পরিবেশিত পরিচিত ও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে দর্শক-শ্রোতারাও কণ্ঠ মেলান। অনেকেই গানের তালে তালে নাচে অংশ নিয়ে উপভোগ করেন সংগীতের আনন্দ। মঞ্চের পরিবেশনা আর দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একসময় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায়। শিল্পী ও দর্শকের এই নিবিড় সংযোগে সংগীতসন্ধ্যা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য। শ্যামামায়ের আরাধনা ও দীপাবলির ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সংগীতের এমন আয়োজন উৎসবে যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা।
এর আগে সকাল ১১টায় শ্রীশ্রী কালীপূজার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টায় ‘কালী শরণম’ শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় ভক্তিময় পরিবেশ।
বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মন্দিরের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। সন্ধ্যা ৬টায় পুনরায় পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টায় আতশবাজির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় আলোর উৎসব। এরপর রাত ১০টায় শ্যামাসংগীত পরিবেশনায় ফিরে আসে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার আবহ। সবশেষে রাত ১১টায় নিশিপূজা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় উৎসবের প্রথম দিনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :